You are currently viewing আমলকীর উপকারিতা – কলিকাতা হারবাল

আমলকীর উপকারিতা – কলিকাতা হারবাল

আমাদের শরীরের জন্য সবচাইতে উপকারী ভেষজের মধ্যে আমলকী হলো একটি। আমলকী অনেক রোগের জন্য চিকিৎসা প্রদান করে এবং এ কারনে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন একটি করে আমলকি খেলে একগাদা ভিটামিন ট্যাবলেট আর খাওয়ার দরকার হবে না।

আমলকী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। বমি ,অনিদ্রা , ব্যথা- বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী। প্রতিদিন একটি করে আমলকী খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারন আমলকী আপনাকে দেবে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার নিশ্চয়তা। আমলকীতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম , ফসফরাস ,লোহ ,ক্যারোটিন এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের মতো অনেক খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে। আসুন তাহলে জেনে নেই আমলকীর কিছু উপকারিতা।

আমলকীর উপকারিতা জেনে নিন

  • আমলকীর টক  ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। মুখে রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুড়োর সাথে মাখন ও সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়ার পূর্বে ‍খেতে পারেন তাহলে মুখের রুচি ও খিদে বাড়বে।
  • আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া ও চোখের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়। যেমন , চোখ চুলকানি , চোখের প্রদাহ এবং চোখের পানি পরার সমস্যা দূর হয়।
  • প্রতিদিন সকালে আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে এবং ত্বকের উজ্জলতা বাড়বে।
  • আমলকী চোখ ভালো রাখার জন্য খুবই উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো ক্যামিকাল যা চোখের সঙ্গে জড়ি ও ডিজেনাবেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান। আমলকী কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয় এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
  • আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ‍ও পাইলসের সমস্যা দূর করে করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের বদহজম ও গোলযোগ রুখতে সাহায্য করে।
  • এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
  • আমলকী সাধারনত ঠান্ডার সাথে লড়াই করতে সক্ষম। ২ চা চামচ আমলকী পাউডার সামান্য একটু মধুর সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ৩-৪ বার খেলে ঠান্ডা কমে যাবে।
  • প্রতিদিন আমলকীর রস খেলে মুখের ও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত হয়।
  • একগ্লাস পানিতে শুস্ক আমলকী ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার হজমে সাহায্য করে।
  • পেটের পীড়া , সর্দি –কাশি ও রক্তশূন্যতা দূরীকরনে আমলকী খুবই ভালো কাজ করে।
  • আমলকী শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
  • আমলকী কোলেস্টরল লেভেল কম রাখতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। তাছাড়াও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • আমলকী হৃদযন্ত্র ,ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিস্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকীর আচার বা মোরব্বা হৃদযন্ত্রের দূর্বলতা ও মস্তিস্ক সচল রাখতে সাহায্য করে।
  • এ্যাজমা ও ফ্রঙ্কাইটিস এর জন্য আমলকীর জুস খুবই উপকারী।
  • আমলকীতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে যা অন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্য বহন করতে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের গতিবেগ নিয়মিত রাখে। এছাড়াও আমলকী ডায়ারিয়া কমাতে সাহায্য করে।
  • আমলকি প্রস্রাবের পরিমান বৃদ্ধি করে। আমাদের কিডনি সুস্থ রাখে। মত্রাশয় সংক্রমন এবং গর্ভাবস্থায় সংক্রমন রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
  • মাসিক ‍ঋতুচক্রের জন্য আমলকী খুবিই উপকারী। আমলকীতে উপস্থিত কিছু খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন মাসিক ‍ঋতুচক্রের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যৌথভাবে উপকারী।
  • আমলকী সাধারনত ঠান্ডার সাথে লড়াই করতে সক্ষম। ২ চা চামচ আমলকী পাউডার সামান্য একটু মধুর সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ৩-৪ বার খেলে ঠান্ডা কমে যাবে।
  • আমলাতে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন রয়েছে। প্রোটিন সেলুলার ডেভেলপমেন্ট , পেশীবহুল উন্নয়ন , অঙ্গ স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপের জন্য অপরিহার্য।
  • আমলকী শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্টের মাধ্যমে শরীর স্বাস্থ সম্পর্কিত হাইপারলিপিডেমিয়া বন্ধ করে। মুক্ত কোষগুলো যেমন বলিরেখা এবং বয়সের ছাপ কমায়।
  • ফোড়ন দেওয়া আমলকীর রস পান করলে জ্বর কমানো যায়। এছাড়া দাঁতে ব্যাথা ও ক্যাভিটি হলে আমলকীর রসে সামান্য কর্পুর মিশিয়ে মাড়িতে লাগালে স্বস্তি পেতে পারেন।
  • শ্বাস –প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা , যেমন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে ও পাচনতন্ত্রের সুষ্ঠু  কার্যকারীতার জন্য আমলকী খুবই উপকারী।
  • যে কোনো উপায় আমলকী খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। এছাড়া হিচকি উঠলে বা বমি হলে আমলকীর রসে মিশ্রী মিশিয়ে দিনে দু –তিন বার পান করলে স্বস্তি পেতে পারেন।
  • মুখের দাগ –ছোপ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমলকী উপকারী। এর পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগালে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়। এছাড়া বলিরেখাও কমে যায়।
  • আমলকীর রস কাশির পাশাপাশি মুখের ঘা নিরাময়েও উপযোগী।  ‍দু চামচ আমলকীর রসে দু চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডা কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আবার মুখের ঘা সারিয়ে তোলার জন্য জলে দু চামচ আমলকীর রস মিশিয়ে গার্গল করলে উপকার পেতে পারেন।
  • নিয়মিত আমলকীর রস পানের ফলে কোলেস্টরলের স্তরও কমানো যায়। এর ফলে  শরীর সুস্থ থাকে। এতে উপস্থিত অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারনে হৃদয়ের কার্যকরিতা যথাযথ থাকে।
  • মাথা ও হৃদয়ের বেশ কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে আমলকী উপকার করে। মাথায় রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এবং মস্তিস্কের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
Rate this post

Leave a Reply